সোমবার, ২৯ Jun ২০২৬, ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

রাজশাহীতে ঘরে ঘরে সুদের আগুন : নিঃস্ব হয়ে অনেকে বাড়ি ছাড়া

রাজশাহী মহানগরীতে স্থানীয় পর্যায়ে ঋণ নিয়ে সুদের টাকা পরিশোধ করতে করতে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন অনেকে।অনেক ঋণগ্রহীতা দাদনের ভয়ে এলাকা ছেয়ে পালিয়েছে। ভেঙে গেছে অনেক সংসার। ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর নিয়ে জিম্মি করে সুদ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ অবস্থায় সোমবার সুদ কারবারিদের একজনের বাড়ি ঘেরাও করে ভুক্তভোগীরা। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহাগনরীর বোয়ালিয়া থানার কেদুর মোড়, হাদির মোড়, পঞ্চবটী এলাকাজুড়ে ঘরে ঘরে চলছে এই সুদের কারবার। সেখানে দিনভিত্তিক সুদের কারবারও হয়। কারও কাছ থেকে এক দিনের জন্য ১০ হাজার টাকা নিলে পরের দিনই ১ হাজার টাকা সুদ দিতে হয়। আর হাজারে সাপ্তাহিক ২০০ টাকার সুদ ওই এলাকাগুলোতে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চলছে। আর এই উচ্চ হারের সুদে টাকা ঋণ নিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ।

কেদুর মোড়ের বাসিন্দা মেহেরজান নামের এক নারী বলেন, তাদের এই এলাকার মানুষ নানা জায়গা থেকে কিস্তির টাকা তোলেন। কেউ মেয়ে বিয়ে দেন, কেউ ঘর করার জন্য টাকা নেন। কারও সন্তান মাদক খেয়ে, জুয়া খেলে টাকা খুইয়ে ফেললে ঋণ নিতে হয়। এক কথায় ঋণ নেওয়ার মানুষের অভাব নেই।

আফজাল হোসেন নামের একজন বলেন, এই এলাকায় নারীরাই সুদের কারবার করেন। নারীরাই নানা কৌশলে সুদের টাকা তোলেন। আবার নারীরাই ঋণ নেন। কারও পাঁচ-দশ হাজার টাকা থাকলেই সুদের ব্যবসা শুরু করেন।

সুদ কারবারের এই পরিস্থিতে সোমবার বেলা ১১টার দিকে সুদ কারবারির একজনের বাড়ি ঘেরাও করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ সময় তারা সুদ কারবারির ওপর চড়াও হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঋণগ্রহীতারা অভিযোগ করেছেন, তাৎক্ষণিক টাকার প্রয়োজনে তারা মোহনা মাহি নামের একজন সুদ কারবারির কাছ থেকে ঋণ নেন। সাপ্তাহিক সুদ প্রতি হাজারে ২০০ টাকা দেওয়ার চুক্তি হয়। ঋণ দেওয়ার সময় তাদের কাছ থেকে ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরের সপ্তাহ থেকে সুদ পরিশোধ শুরু করেন তারা।

কিন্তু আসল টাকা পরিশোধ করতে চাইলে মোহনা মাহি নেন না। সুদের টাকা জমা দেওয়ার কোনো কাগজপত্রও দেন না। এভাবে নানা কৌশলে তিনি গত কয়েক মাসে ২০-৫০ হাজার টাকা ঋণের বিপরীতে লাখ টাকা পর্যন্ত সুদ নিয়েছেন। কিন্তু আসল আর শেষ হয় না। চেকের মামলার ভয় দেখিয়ে এই টাকা নিতেই থাকেন তিনি।

গত শনিবার নগরের কেদুর মোড় এলাকায় সুদের কারবারির বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগী ঋণগ্রহীতারা। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রুবিনা বেগম, কোহিনুর বেগম, বেলি বেগম, কমেলা বেগম, সেলিনা বেগমসহ অন্তত ১০ জন নারী। সোমবার সুদ কারবারির বাড়ি ঘেরাওয়ের সময়ও তারা ছিলেন।

রুবিনা বেগম দাবি করেন, তিনি বিপদে পড়ে ৬ মাস আগে মোহনা মাহির কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নেন। সে সময় মোহনা তার স্বাক্ষর করা ফাঁকা চারটি ব্যাংক চেক নেন। পরের সপ্তাহ থেকে তাকে সুদের টাকা দেওয়া শুরু করেন রুবিনা। সপ্তাহে তাকে সুদ দিতে হয়েছে দুই হাজার টাকা। এভাবে ছয় মাসে ৫৪ হাজার টাকা সুদ হিসেবে দিয়েছেন তিনি। এখন মাহী আরও টাকা দাবি করেছেন। ফাঁকা চেক ফেরত না দিয়ে। মামলার ভয় দেখাচ্ছেন। এ জন্য তিনি গত শনিবার নগরের বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

কেদুর মোড় এলাকার কোহিনুর বেগম বলেন, ‘৩০ হাজার টাকা ঋণ নিই। পাঁচ মাসে ৬০ হাজার টাকা সুদ দিয়েছি। এর পর আর সুদের টাকা দিতে পারিনি। টাকা না দেওয়াতে আমার বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকার চেকের মামলা করেছেন মোহনা মাহি। এখন পর্যন্ত তিনবার আদালতে হাজিরা দিয়েছি। সুদের কারবারি আরও টাকা চান, কিন্তু ফাঁকা চেক ফেরত দিচ্ছেন না।’ একইভাবে ওই এলাকার বাসিন্দা কমেলা বেগম ও সেলিনা বেগম সুদের টাকা পরিশোধ করতে করতে সর্বস্বান্ত হয়ে যাওয়ার কথা জানান।

যোগাযোগ করা হলে সুদ কারবারি মোহনা মাহি বলেন, তারা ফাঁকা চেক দিয়ে টাকা নিয়েছেন। এখন টাকা চাইতে গেলে গালাগালি করছেন। বাড়িতে লোকজন নিয়ে আসছেন। কেউ টাকা দিচ্ছেন না, অথচ তারা চেক জমা দিয়ে টাকা নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘তিনি তাদের বিপদে টাকা দিয়েছেন। কোনো সুদ নেননি। উল্টো তারা টাকা নিয়ে টাকা ফেরত দিচ্ছেন না।’

নগরের বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি সোহরাওয়ার্দী হোসেন বলেন, তারা ওই এলাকা থেকে অভিযোগ পেয়েছেন। যদি ফাঁকা চেক জমা রেখে জিম্মি করে টাকা আদায় করেন, তাহলে তারা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন। এই এলাকার ঘরে ঘরে সুদের ব্যবসা চলে বলে জানান ওসি।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com